রোদে চলাফেরার কারণে ত্বকে কালো, বাদামি কিংবা লালচে দাগ পড়তে পারে। এছাড়া ত্বকে ধূলাবালি পড়ে ত্বকে ব্রণ হয়ে দাগ সৃষ্টি হয়। এসব সমস্যা ঘরোয়া বা প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে নিরাময় করা যায়। রূপচর্চাবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে জানানো হয়, মুখের পাশাপাশি এই কালো দাগ হাত, গলা, পিঠ, মাথার তালু কিংবা কাঁধেও হতে পারে।বার্ধক্য, চর্মরোগ, ডায়াবেটিস, দুশ্চিন্তা, ধূমপান, ক্যান্সার, হরমোনের পরিবর্তন কিংবা রোদে অতিরিক্ত চলাফেরার কারণে শরীরে এই ধরনের দাগ পড়তে পারে। এছাড়াও ভিটামিন সি বা বি১২’য়ের অভাবে এবং মেয়েদের মাসিক বা গর্ভাবস্থায় শরীরে এই ধরনের দাগের সৃষ্টি হয়। শরীরের এসব কালো দাগ দূর করার জন্য প্রাকৃতিক উপায়ে সহজ সমাধান চেষ্টা করে দেখতে পারেন।
লেবুর রস
এতে রয়েছে বিশেষ উপাদান। যা শরীরের গাঢ় দাগ হালকা করতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে আক্রান্ত স্থানে লেবুর রস দিয়ে কিছুক্ষণ পর ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে। এছাড়াও চাইলে গোটা লেবু মাঝ বরাবর কেটে আক্রান্ত স্থানে ঘষতে পারেন। গোসলের আগে এই অভ্যাস শরীরের দাগ দূর করতে সাহায্য করবে।
ডিমের কুসুম
এটা হল প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার এবং উজ্জ্বলতাবর্ধক। এক্ষেত্রে আক্রান্তস্থানে ডিমের কুসুম ব্যবহার করে ২০ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে।
চন্দন
ত্বকের বলিরেখা দূর করতে চন্দনের জুড়ি নেই। চন্দনগুঁড়া, গ্লিসারিন, লেবুর রস এবং গোলাপ জল একসঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে নিতে পারেন। এই মিশ্রণ ত্বকে মেখে শুকানো পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। তারপর কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে।
অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী
বিভিন্ন চর্মরোগের সমাধান দিতে পারে অ্যালোভেরা। এটা শরীরের পোড়াদাগ দূর করতে পারে। এক্ষেত্রে আক্রান্তস্থানে অ্যালোভেরার জেল ব্যবহার করে ৪৫ মিনিট পর ঠাণ্ডা পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে। প্রতিদিন দুবার, টানা একমাস এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।
চিনি
ত্বকে চিনি ঘষার মাধ্যমে মৃত কোষ দূর করা যায়। চিনির মধ্যে ত্বক উজ্জ্বলকারী উপাদান থাকে যা ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
পেঁপে
এই ফলে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম যা ত্বকের কালিমা দূর করে উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে। এক্ষেত্রে আক্রান্ত স্থানে তাজা পেঁপে ঘষে মিনিট বিশেক পর কুসুম গরম পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে। দিনে দুবার এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে ভালো ফল পাওয়া যাবে।
লাল কিশমিশ বা রসালো ফল
আধা গ্লাস লাল কিশমিশ বা রসালো ফলের সঙ্গে এক টেবিল-চামচ মধু মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করতে হবে। তারপর আধা ঘণ্টা পর হালকা গরম পানিতে ধুয়ে ফেলতে হবে। আরো ভালো ফলাফলের জন্য লেবুর রস ব্যবহার করা যেতে পারে।
পেঁয়াজের রস
ত্বকের বলিরেখা দূর করে। দিনে তিনবার করে আক্রান্ত স্থানে পেঁয়াজ ফালি ঘষে শরীরের কালো দাগ দূর করা যেতে পারে।
গোলাপ জল
মুখের কালো দাগ দূর করার জন্য প্রতিদিন গোলাপ জলে মুখ ধুয়ে নিতে পারেন। এটি ত্বকের শুষ্কতা দূর করে এবং মুখের কালো দাগ পরিষ্কার করে।
মধু এবং কাঁচাআলুর রস
মধুর মধ্যে কাঁচাআলুর রস মিশিয়ে আক্রান্ত স্থানে হালকা মালিশ করতে হবে। এটি ত্বকের কালিমা কিংবা শ্বেতস্তর দূর করে।
টমেটোর রস
ত্বক উজ্জ্বল করে এবং ত্বকের মেলানিন নামক রঞ্জক পদার্থের ভারসাম্য রক্ষা করে। তাই দিনে একবার করে টমেটোর রস ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বকের কালো দাগ দূর করা যায়।








